ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ জুন ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই!

সম্পাদকীয়
জুন ২৪, ২০২৫ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

  1. 🖋️ সম্পাদকীয় কলাম

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়ায় দাঁড়িয়ে মুসলিম বিশ্বের নীরবতা

বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা চরমে। ২২ জুন ২০২৫, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত “আত্মরক্ষার” নামে ইরানের উপর বর্বর হামলা চালিয়ে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আনবিক স্থাপনাসমূহ ধ্বংস করে দেয়। এই হামলা বিশ্বকে নতুন করে এক অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছে, যার নাম হতে পারে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

তেহরানজুড়ে আজ ধোঁয়া, কান্না আর মৃত্যু। আর এদিকে জাতিসংঘ নিরাপদ নীরবতায়। প্রশ্ন জাগে—এই সংঘাত কি শুধু ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ? না কি এটি বৃহৎ শক্তির লুকিয়ে রাখা ভূরাজনৈতিক মহড়ার অংশ?


একতরফা হস্তক্ষেপ: আত্মরক্ষা না আধিপত্য?

যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি আগ্রাসনকে আত্মরক্ষার ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলেও, বাস্তবে এটি একটি সুপরিকল্পিত সামরিক হামলা, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন। তেহরানের হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার যেন আমাদের বিবেককে চ্যালেঞ্জ করে বলছে—”এ কেমন সভ্যতা?

“মুসলিম বিশ্ব কেন এখনো মৌন?

৫৭টি মুসলিম দেশ থাকলেও তাদের নেতৃত্ব আজ চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন, দুর্বল এবং নিষ্ক্রিয়।
তুরস্ক, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান বা সৌদি আরব— কেউই সাহস করে সোজাসাপটা অবস্থান নিচ্ছে না।
ওআইসি যেন এখন কেবল এক পরিসংখ্যান, কার্যকর কোনো বৈশ্বিক শক্তি নয়।

এমনকি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়ায় চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের নেতিবাচক নীরবতাই মুসলিম জনগণের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের দৃষ্টিতে: সহানুভূতির ছায়া

বাংলাদেশি অনুসন্ধানী এক সাংবাদিক সম্প্রতি কথা বলেন Lia নামের এক আইডিএফ নারী সৈনিকের সঙ্গে।
Lia বলেন:

“আমি একজন সৈনিক, কিন্তু তার আগে একজন মানুষ। আমার ভাই হাসপাতালে। আমি শান্তি চাই। আর আমি জানি তেহরানের কোনো মাও আজ একইভাবে কাঁদছেন।”

এটি প্রমাণ করে—যুদ্ধের মাঠে বিপরীত পক্ষে থাকা মানুষগুলোও আসলে একইরকম কষ্টে আছে। পরিচয় যত জটিল হোক, সহানুভূতির ভাষা সবসময় সহজ।

সত্যের উপর যুদ্ধ

যুদ্ধের সময় সত্যও আহত হয়। তখন মিডিয়া হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির হাতিয়ার।
যখন বলা হয়:

“ওরা সন্ত্রাসী!”
“আমরা আত্মরক্ষা করছি!”
“ওরা আমাদের ঘৃণা করে!”

তখন একটা প্রশ্ন মাথায় আসে—
মৃত শিশুর মুখ কি পরিচয় জানে?

এখন সময় একতাবদ্ধ হওয়ার

বিশ্ব যখন অস্ত্রের দাপটে উন্মত্ত, তখন মুসলিম বিশ্বের উচিত—

★ তুরস্কের নেতৃত্বে কূটনৈতিক ঐক্য গঠন
★ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সংঘবদ্ধভাবে মানবিক বার্তা দেওয়া
★ মুসলিম যুবসমাজ, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের বিশ্বমঞ্চে আনয়ন
★ অস্ত্র নয়, মানবিকতা নির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: দূর ভবিষ্যৎ নয়, সমসাময়িক বাস্তবতা

বিশ্লেষকরা বারবার সতর্ক করেছেন—
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং রাশিয়া-চীন পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিশ্বকে এক ভয়াবহ তৃতীয় মহাযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই যুদ্ধ আর আগের মতো সীমাবদ্ধ নয়। এখন যুদ্ধ হবে:

  •  সাইবার জগতে

  • মহাকাশে

  • পারমাণবিক শক্তিতে

  • মিডিয়ায় তথ্য যুদ্ধের মাধ্যমে

  • সমাপ্তি বার্তা

আজ আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজন বোমার আওয়াজ নয়—মানবিকতার কণ্ঠস্বর

“ভবিষ্যতের শিশুরা যেন বড় হয় শ্রেণিকক্ষে—not in bunkers.”

আমরা কি পারি না—

* দেয়াল নয়, জানালা খুলে দিতে?
* সীমানা নয়, সেতু নির্মাণ করতে?
* অবিশ্বাস নয়, আলোকিত করতে বিশ্বকে বিশ্বাসে?

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।